সারাদেশ

রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধস, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

টানা ভারী বর্ষণের ফলে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। মাইনি নদীর পানি বিপদসীমার উপরে উঠে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

খাগড়াছড়ির বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের খবর না মিললেও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।এ ছাড়া পাহাড় ধসের মধ্যে অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষকে জেলা সদরের শালবন এলাকার একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২ জুন) দুপুরে প্রশাসন জানিয়েছে, দীঘিনালার মাইনি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার এলাকা সড়ক ডুবে রাঙ্গামাটি লংগদুর সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া মেরুং ইউনিয়নের সোবাহানপুর, চিটাগাংইয়্যা পাড়া ও মেরুং বাজারের কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত কুমার সাহা বলেন, ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৭টা পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, রোববার ভোর রাতে ধুমনীঘাট এলাকায় পাহাড় ধসে মহালছড়ির সঙ্গে জালিয়াপাড়া সড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল।

এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভূয়াছড়ি, গুগড়াছড়ি ও ন্যান্সি বাজার এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণহানি না হলেও যানবাহন চলাচল বিঘ্ন ঘটে।

এদিকে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস দেখা দিয়েছে। সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শালবন, কুমিল্লা টিলা, ১৮ পরিবার, হরিনাথপাড়া গ্যাপ, নেন্সিবাজার, কলাবাগানসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করছে জেলা প্রশাসন।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায় বলেন, “সকাল থেকে বেশকিছু সড়কের উপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষকে জেলা সদরের শালবন এলাকার শিশু কল্যাণ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়ে আসা হয়েছে। তাদেরকে জেলা প্রশাসনের খিচুড়ি এবং ডিম রান্না করে খাওয়ানো হচ্ছে। সদর উপজেলায় চারটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।”

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান বলেন, খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের আলুটিলায় এবং দীঘিনালা-লংগদু সড়কে করইল্যাছড়ি এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সড়ক বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় সড়ক সচল করার কাজ চলছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, জেলায় ১২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং জনগণকে সেখানেই আশ্রয় নিতে মাইকিং করে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। যারা আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা রয়েছে। দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সুভূতি চাকমা বলেন, খাগড়াছড়িতে ২৪ ঘণ্টায় ৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

এদিকে রামগড়ের ভারত সীমান্তবর্তী ফেনীনদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে,ফলে ওই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। টানা বর্ষণ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ রয়েছে, ফলে যোগাযোগে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

নিউজ টাইমস বিডি২৪ ডেস্ক :

Leave a Reply