২০০ মিটারের কাঁচা সড়কের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন একটি গ্রামের কয়েকশ মানুষ। এই সময়ে ক্ষমতার বহুমাত্রিক পালা বদল হলেও বদলায়নি সড়কটির চিত্র। বরং সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে ভোগান্তি। সেই ভোগান্তি লাঘবে চাঁদা তুলে গ্রামের মানুষ নিজেরাই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।
সোমবার থেকে সড়কটিতে খোয়া ও বালু বিছানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ গ্রামের এমন একদল মানুষ সড়কটির সংস্কারে কাজ করছেন। গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের তেলটুপি গ্রামের বুক চিরে কাঁচা এই সড়কটি বয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি তেলটুপি পুটিমারি পাকা সড়ক থেকে শুরু হয়ে প্রায় দুই কিলোমিটারের এই সড়কটি পুটিমারি দক্ষিণপাড়া হয়ে রশিদপুর বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। এরমধ্যে বছর তিনেক আগে পুটিমারি পাকা সড়ক থেকে দক্ষিণপাড়া বায়তুন নাজাত জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়কে হেরিংবন্ড করা হয়েছে। কিন্তু সেখানকে রশিদপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ২শ মিটারের বেশি কাঁচাই রয়েছে। ফলে বৃষ্টিতে কাঁদা আর শুষ্কে ধুলোয় নাকাল হতে হয় এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল মানুষদের। দুর্ভোগ নিরসনে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্না দিয়েও দুইশ মিটার সড়ক পাকাকরণে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তাই সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না গ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে নিজেরাই সড়কাটির দুইশ মিটার সংস্কার করছেন।
সড়কটি স্বেচ্ছা শ্রমে সংস্কারের প্রথমটি উদ্যোগটি নেন শিক্ষক মাহাবুব এ খোদ। তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দে সড়কটি পাকাকরণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন নিবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি। কাঁচা সড়কে বড় গর্ত, কোথাও বৃষ্টির পানির তোরে ধ্বসে গেছে। নারী-শিশুসহ অসুস্থ বৃদ্ধদের হাসপাতালে নিতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। একারণে তিনি সড়কটি স্বেচ্ছা শ্রমে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেলো সড়কটি সংস্কারের দৃশ্য। নানা বয়সি ৫০ থেকে ৬০জন মানুষ সড়কটি সংস্কারে কাজ করছেন। কেউ ইট ভাঙছেন, খোয়া-বালু বিছাচ্ছেন। একদল পাওয়ার টিলার দিয়ে সেই খোয়া রোলারের কাজ করছেন। এভাবে চলছে তাদের সড়ক সংস্কারের কাজ।
চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান বলেন, সড়কটি পাকাকরণে বরাদ্দ না থাকায় তিনি কিছু করতে পারেননি। তবে সংস্কারের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বরাদ্দ এলে দুইশ মিটারের সড়কটি পাকাকরণ করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিলন মিয়া বলেন, আগামী অর্থ বছরের জন্য বেশকিছু সড়কের তালিকা করা হয়েছে। তারমধ্যে এই সড়কটিও রয়েছে। বরাদ্দ এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি কাজ আগে করা হবে।






