সারাদেশ

আওয়ামী লীগ থেকে গণঅধিকার পরিষদে, নির্বাচনে জামানত হারিয়ে এবার এনসিপি নেতা

ঘটনা ২০২৪ সালের। সেই বছর ২৯ মে অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোটরসাইকেল প্রতীকে নিয়ে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. গোলাম রাব্বানী। তবে ২ হাজার ৭২৪ ভোট পেয়ে জামানত হারান তিনি।

এরপর গত ৫ আগস্টের পর থেকে ঢাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের দল গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নেতা হিসেবে আর্বিভূত হয় গোলাম রাব্বানী। আচমকা নুরের সঙ্গে ছবি যুক্ত করে এলাকায় দেখা যায় তার রঙিন পোস্টার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি রাব্বানীর। আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করে গণঅধিকার পরিষদ। এরপর ঢাকঢোল পিটিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে জামানত হারানো এই নেতা যোগ দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে নওগাঁর এনসিপি জেলা সমন্বয়ক কমিটির সদস্য পদে মো. গোলাম রাব্বানীর নাম প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচনে জামানত হারানো এই প্রার্থীর একের পর এক দল বদল কাণ্ডে এলাকায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

বিতর্কের মুখে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন গোলাম রাব্বানী। সেখানে তিনি বলেন, আমি যেহেতু একজন ব্যবসায়ী। তাই চাপের মুখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে যেতাম এবং আমাকে অনুদান দিতে বাধ্য করা হতো। তবে আমি কখনোই আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে ছিলাম না। ২০২১ সাল থেকে গণ অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। এটাই আমার প্রথম রাজনৈতিক প্লাটফর্ম। কিন্তু দলটির অভ্যন্তরীণ অগণতান্ত্রিক আচরণ, চাপ প্রয়োগ এবং নেতিবাচক রাজনীতির কারণে গণ অধিকার পরিষদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমি সরে দাঁড়িয়েছি।

গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কমিটি ও রাজশাহী আঞ্চলিক উপ কমিটির সদস্য এসএম সাব্বির হোসেন বলেন, নওগাঁ জেলা গণধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরপরই আমরা জানতে পারি, গোলাম রাব্বানী আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। পরে আমি নিজে কেন্দ্রকে বিষয়টি অবগত করি। সর্বশেষ গোলাম রাব্বানীকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে গত ৫ জুন গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদকের স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

এদিকে রাণীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল খালেক মুঠোফোনে বলেন, ২০২১ সালে ২৫ এপ্রিল গঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে প্রাথমিক পর্যায়ে গোলাম রাব্বানীকে সদস্য পদ দেওয়া হয়। কিন্তু পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়। এরপরও গোলাম রাব্বানী আওয়ামী লীগের একজন সুবিধাবাদী সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন একজন সুযোগ সন্ধানী ও প্রতারক। নিজের স্বার্থের জন্য গোলাম রাব্বানী নিজেকে আওয়ামী লীগ পরিবারের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করতেন।

দলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোলাম রাব্বানীর বাবা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা (তালিকাভুক্ত) আলহাজ্ব আজিজার রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৭ নম্বর একডালা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি ছিলেন। রাব্বানীর বড় চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন ছিলেন আওয়ামী লীগ পন্থী নেতা এবং পাঁচবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় একজন ইউপি চেয়ারম্যান।

২০০৪ সালে আফজাল হোসেনকে ‘সর্বহারা’ সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা দিনে-দুপুরে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করন।

এর আগেই ‘সর্বহারা’ সন্ত্রাসী দলের দৌরাত্ম্যের কারণে নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে ফ্রান্সে পাড়ি জমান রাব্বানী। এরপর ২০১৮ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন।

সবশেষ হঠাৎ গত বৃহস্পতিবার রাতে এনসিপি নওগাঁ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হলে সেখানে সদস্য হিসেবে পদায়িত হন রাব্বানী। এনসিপির কমিটির ঘোষণায় নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে গণ অধিকার পরিষদের রাজনীতি থেকে সরে এসে এনসিপিতে যোগদানের বিষয়টি জানানা দেন তিনি। যদিও গণ অধিকার পরিষদ নেতাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগে রাব্বানীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এনসিপির নওগাঁ জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী মুনিরা শারমিন মুঠোফোনে বলেন, গোলাম রাব্বানীকে কমিটিতে নেওয়া হয়েছে গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখে। যেহেতু গণঅধিকার পরিষদ আওয়ামী বিরোধী ছিল। তাই গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে আসায় তাকে নেওয়া হয়েছে। তারপরও তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আমরা ব্যবস্থা নিব। শুধু গোলাম রাব্বানী নয়, আগামীতে এনসিপির আহ্বায়কের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে আমরা কমিটিতে রাখবো না।

নিউজ টাইমস বিডি২৪ ডেস্ক :

Leave a Reply