সারাদেশ

অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতের হানা, স্বজনদের পিটিয়ে স্বর্ণালংকারের খোঁজে মরদেহেও তল্লাশি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান কালিতলা-দুর্গাপুর এলাকায় লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা স্বজনদের মারধরের পাশাপাশি মূল্যবান স্বর্ণালংকারের খোঁজে মরদেহেও তল্লাশি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

বুধবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আয়েশা খাতুন (৫০) নামে এক নারীর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছিল পরিবারের সদস্যরা।

আয়েশা খাতুন মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের সুধিরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা নিয়ামত আলীর স্ত্রী।

ডাকাতির শিকার যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম (৪২), আইলচারা গ্রামের আকছেদ মন্ডলের ছেলে শাহবুল, শিঊলি খাতুন (৪৬) এবং ফেরদৌসি (৩২)।

ভুক্তভোগীরা জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিতলা-দুর্গাপুর সড়কের মাঠ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পথে প্রতিবন্ধকতা দেখতে পেয়ে অ্যাম্বুলেন্স থামান চালক। তারপর পাশের পানের বরজ থেকে ৪ থেকে ৫ জন ডাকাত দলের সদস্য বেরিয়ে আসেন। ডাকাতেরা ধারালো অস্ত্রের মুখে চালকের কাছ থেকে চার হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাদের সঙ্গে থাকা টাকা এবং নারীদের কাছ থেকে স্বর্ণাংলকার ছিনিয়ে নেয়। এমনকি মরদেহের কান ও গলায় মূল্যবান কোনো অলংকার আছে কি-না তাও তল্লাশি করে ডাকাতদল।

ভুক্তভোগী অ্যাম্বুলেন্স যাত্রী রকিবুল ইসলাম বলেন, আমার বড় বোনের মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে ডাকাতদল অ্যাম্বুলেন্সে হানা দেয়। এসময় আমাদের কাছে থাকা নগদ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা এবং একজোড়া কাদের দুল ছিনিয়ে নেয়। এমনকি মরদেহের কান ও গলাও তল্লাশি করে তারা। হাঁসুয়া (ধারালো অস্ত্র) দিয়ে আমাদের মারধর করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, যে স্থানে ঘটনা ঘটেছে সেই স্থানটি একেবারেই গ্রামের ভেতর। কিন্তু ওই মাঠ সংলগ্ন প্রধান সড়কে আমাদের পুলিশ পাহারা ছিল। যেটা এলাকার স্থানীয়রা সবাই জানে। রাস্তাটিতে এমন ঘটনা এটিই প্রথম। ঘটনা তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।

নিউজ টাইমস বিডি২৪ ডেস্ক :

Leave a Reply